পরাজয় স্বীকার করুন মমতা, হিন্দু ভোট বৃদ্ধিতেই কুপোকাত তৃণমূল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর তিনি দাবি করেন, রাজ্যে হিন্দু ভোটারদের সমর্থন প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের এই রায়কে যারা অস্বীকার করছে বা সিসিটিভি ট্যাম্পারিংয়ের মতো অভিযোগ তুলছে, তাদের রাজনৈতিক পতন নিশ্চিত বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গণতন্ত্রের জয় ও তৃণমূলের অভিযোগ
সুকান্ত মজুমদারের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একই কমিশন কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গে ভোট করিয়েছে। কেরালায় ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও বাংলায় হারার পর তৃণমূলের অভিযোগ তোলা দ্বিচারিতা মাত্র। বিজেপি নেতা স্পষ্ট জানান, ভোটারদের কেউ ভাড়া করে আনেনি; বরং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে করা মন্তব্যকেও তিনি গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন।
তৃণমূলের আগ্রাসন বনাম বিজেপির নীতি
নির্বাচন পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি সাফ জানান, তৃণমূলের মতো হিংসাত্মক পথে হাঁটা বিজেপির নীতি নয়। তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় কোনো কর্মী জড়িত থাকলে দল তাদের পাশে দাঁড়াবে না এবং পুলিশি ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাবে। ভয়ের পরিবেশ নির্মূল করে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন বিজেপির লক্ষ্য।
ফলাফলের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
এবারের নির্বাচনে ২০৬টি আসন পেয়ে বিজেপি বাংলায় প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২১ সালে তাদের আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৭। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ২১২টি আসন থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৮০টিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল জনসমর্থন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুকান্ত মজুমদারের দাবি অনুযায়ী, হিন্দু ভোটের মেরুকরণ এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভই বিজেপিকে এই অভাবনীয় সাফল্যে পৌঁছে দিয়েছে, যা আগামী দিনে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
