“মাথা উঁচু করে চলুন!” মমতার হারে বিস্ফোরক বিবেক অগ্নিহোত্রী – এবেলা

“মাথা উঁচু করে চলুন!” মমতার হারে বিস্ফোরক বিবেক অগ্নিহোত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কি এবার নতুন ভোরের সূর্যোদয়! ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির উত্থানের পর এমনই এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়ায় সরব হলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী। ৫ মে এক টুইট বার্তায় তিনি এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলার মানুষকে ‘নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে’ চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিষিদ্ধ চলচ্চিত্র ও দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতি

বিবেক অগ্নিহোত্রীর এই প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর পরিচালিত ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে দীর্ঘ তিক্ততা। নির্মাতার দাবি, তৎকালীন মমতা সরকার তাঁর চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বারবার বাধা সৃষ্টি করেছিল। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির সময় প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবি সরিয়ে নেওয়া এবং নির্মাতা হিসেবে তাঁকে বাংলায় কার্যত বয়কট করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। গত বছর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর ট্রেলার লঞ্চের সময় তাঁর ওপর শারীরিক হামলা এবং একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার ঘটনাও তিনি পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছেন। বিবেক জানান, আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক বাধার কারণে তিনি এমনকি রাজ্যপালের হাত থেকে পুরস্কার নিতেও কলকাতায় আসতে পারেননি।

গোপন প্রচার এবং সত্যের জয়

নির্বাচনী আবহে বিবেক অগ্নিহোত্রী দাবি করেছেন যে, শত বাধার মুখেও তিনি দমে যাননি। তাঁর মতে, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিটি তিনি গোপনে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এই লড়াইকে তিনি ‘সত্যের জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে তিনি দেখিয়েছেন যে, একসময় তিনি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছবিটির শান্তিপূর্ণ মুক্তির জন্য হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলেন এবং সিবিএফসি-র নিয়ম অনুযায়ী সাংবিধানিক কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিবেক অগ্নিহোত্রীর এই মন্তব্য বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, বাংলার ইতিহাসে হিন্দু গণহত্যার মতো ‘বেদনাদায়ক অধ্যায়’ নিয়ে কথা বলা যদি অপরাধ হয়, তবে তিনি সেই শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়ের ফলে রাজ্যে বাকস্বাধীনতা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। একইসঙ্গে, দীর্ঘদিনের সেন্সরশিপ বা অলিখিত নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে ভিন্নমতের শিল্পীরা এখন বাংলায় আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *