“খেলা শেষ, এবার আমার পালা!” অরূপ বিশ্বাস হারতেই ‘মেসি-কাণ্ড’ নিয়ে ভয়ংকর বিস্ফোরণ শতদ্রু দত্তর

লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং আয়োজক শতদ্রু দত্তর গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সমাজমাধ্যমে একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন শতদ্রু। এতদিন নীরব থাকলেও এখন কেন মুখ খুললেন, তার কারণ হিসেবে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি।
ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার অভিযোগ
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় নীরব ছিলেন শতদ্রু দত্ত। তার দাবি, জেলে থাকাকালীন এবং মুক্তির পরেও তাকে ও তার পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শতদ্রু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “যদি মুখ খোলো, তোমার ফ্যামিলিকে শেষ করে দেব”— এমন হুমকির কারণেই তিনি এতদিন চুপ ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে ফিরেছেন। সমাজমাধ্যমে প্রাক্তন মন্ত্রীর পরাজয় সংক্রান্ত ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “তোমার খেলা শেষ, এবার আমার খেলা শুরু।”
যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্রের দাবি
গত বছরের ডিসেম্বরে মেসির সফরের সময় যুবভারতীতে দর্শকদের বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার জন্য শতদ্রুকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল। তবে বর্তমান দাবিতে শতদ্রু জানিয়েছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার অভিযোগ, ভিআইপি পাস ও বিশেষ কার্ডের জন্য তার সংস্থার কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং দাবি না মানায় একটি ঘরে আটকে রেখে ভয় দেখানো হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তিন বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফসল একটি বিশেষ মহলের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রভাব
ঘটনাটি কেবল অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। শতদ্রু দত্ত ইতিমধ্যে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যদি শতদ্রু তার দাবিমতো প্রকৃত তথ্য প্রমাণসহ সামনে আনেন, তবে যুবভারতীর সেই রাতের বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠতে পারে। আপাতত ‘সব সত্য’ সামনে আনার যে হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছেন, তার প্রভাব আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ সুদূরপ্রসারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
