তৃণমূলের ‘বেনোজল’ রুখতে কঠোর বিজেপি, দলবদলে জারি হলো জরুরি নিষেধাজ্ঞা

তৃণমূলের ‘বেনোজল’ রুখতে কঠোর বিজেপি, দলবদলে জারি হলো জরুরি নিষেধাজ্ঞা

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পালাবদলের পর দলবদলের হিড়িক বাড়লেও এখনই বাইরের কাউকে দলে নিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে আসা নেতা-কর্মীদের জন্য আপাতত পদ্ম শিবিরের দরজা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সংগঠনের প্রতিটি স্তরে এই কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনো যোগদান কর্মসূচি পালন করা যাবে না।

তৃণমূল নেতাদের তদ্বির ও বিজেপির কৌশল

নির্বাচনী ফলের পর থেকেই তৃণমূলের স্থানীয় স্তরের নেতা, পঞ্চায়েত সদস্য ও কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে বিজেপিতে যোগদানের আবেদন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বলে দাবি করছে গেরুয়া শিবির। তবে এই গণ-যোগদানকে ‘বেনোজল’ হিসেবেই দেখছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, যাঁদের জনবিরোধী কার্যকলাপ বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে এই জয় এসেছে, তাঁদেরই যদি দলে ঠাঁই দেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। এতে নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনরোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থান

বিজেপি নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিষ্কার যে, তাঁরা তাড়াহুড়ো করে দলের শক্তি বাড়াতে গিয়ে শৃঙ্খলা বিসর্জন দিতে রাজি নন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য দল থেকে যোগদান সম্পূর্ণ বন্ধ এবং এর লঙ্ঘন হলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল বা সেখানে বিজেপির পতাকা লাগানোর মতো ঘটনা রুখতেও কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরপরই পুরোনো কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে এবং দলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই রণকৌশল নিয়েছে বিজেপি। এই নিষেধাজ্ঞা তৃণমূলের অন্দরেও প্রবল চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *