বাংলার পুলিশ ও প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি! আসতে পারেন অজয় পাল শর্মার মতো দুঁদে অফিসাররা

বাংলার পুলিশ ও প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি! আসতে পারেন অজয় পাল শর্মার মতো দুঁদে অফিসাররা

কলকাতা: ৪ মে-র মহাগণনায় বাংলায় পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই নবান্নের প্রশাসনিক অলিন্দে বড়সড় রদবদলের তোড়জোড় শুরু করে দিল বিজেপি। দলীয় সূত্রে খবর, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরপরই পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনে একগুচ্ছ আমূল পরিবর্তনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো আধিকারিকদের বদলে নতুন ও ‘দুঁদে’ অফিসারদের হাতে শাসনভার তুলে দেওয়াই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য।

ছেঁটে ফেলা হতে পারে অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের

বিজেপি সূত্রের দাবি, সরকার গঠনের পরই প্রথম কোপ পড়তে চলেছে সেই সব আধিকারিকদের ওপর, যাঁরা অবসর নেওয়ার পরেও চুক্তিতে বা পুনর্বহাল হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে থাকা এই অফিসারদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া নেতৃত্ব। মনে করা হচ্ছে, প্রশাসনিক কাজে গতি ফেরাতে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান চালানো হবে।

ডেপুটেশনে আসতে পারেন উত্তরপ্রদেশের দুঁদে অফিসাররা

বাংলার আইন-শৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে ভিনরাজ্য থেকে অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারদের ডেপুটেশনে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় সবথেকে বেশি চর্চায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার নাম। তাঁর মতো কঠোর ও দক্ষ অফিসারদের বাংলায় এনে পুলিশি ব্যবস্থায় কড়া বার্তা দিতে চায় বিজেপি। একই সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান একগুচ্ছ আইপিএস অফিসারকে ভিনরাজ্যে বদলি করে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গুরুত্বপূর্ণ পদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বাঙালি অফিসাররা

রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকে কর্মরত বাঙালি আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দিল্লির অলিন্দে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন বাঙালি অফিসারদের মহাকরণ ও নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সব মিলিয়ে, শপথ গ্রহণের আগেই পুলিশ ও প্রশাসনের খোলনলচে বদলে দেওয়ার যে ছক বিজেপি কষছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *