২০৭ আসনে জিতেও বিজেপিকে রুখতে মরিয়া মমতা! অখিলেশ-রাহুলকে নিয়ে কি নজিরবিহীন বিদ্রোহের পথে বাংলা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও রাজ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পরাজয় মেনে নিয়ে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই রায়কে ‘জনগণের রায়’ নয় বরং নির্বাচন কমিশনের ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন উঠেছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনশক্তির প্রদর্শন ঘটিয়ে এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কলকাতায় বিশাল রোড শো-এর পরিকল্পনা করছেন। এই আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলের শীর্ষ নেতারা। অভিযোগ উঠেছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষাধিক ব্যক্তিকে এই মিছিলে সামিল করে রাজভবন ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ করেছে, যা লোকতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তার উদ্বেগ
এই রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে উঠে আসছে ‘ডিপ স্টেট’ ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের গুরুতর অভিযোগ। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে আইএসআই এবং বাংলাদেশি জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তপার থেকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বিধায়ক কেনাবেচার (Horse-trading) মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হতে পারে।
আসন্ন সাংবিধানিক সংকট ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা
বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে শেষ হতে চলায় হাতে সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। আইন অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠনের দাবি জানালেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা অথবা রাজ্যে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে। আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
