মেট্রো প্রকল্পের গেরো কাটল চিংড়িঘাটায়, দ্রুত যাতায়াতের আশায় বুক বাঁধছে শহরবাসী
_20260506125804_original_image_13.webp)
দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি বাধা কাটিয়ে অবশেষে আগামী ১৫ মে থেকে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর লাইন জোড়ার কাজ শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়হীনতা এবং যান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অনুমতি নিয়ে যে জট তৈরি হয়েছিল, তা কেটে যাওয়ায় তিলোত্তমার পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট বা অরেঞ্জ লাইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ সম্পন্ন করতে কলকাতা পুলিশ মে মাসের দুটি নির্দিষ্ট উইকএন্ডে যান নিয়ন্ত্রণে সম্মতি জানিয়েছে।
কাজের সূচি ও যান নিয়ন্ত্রণ
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৮ মে এবং ২২ থেকে ২৪ মে—এই দুই দফায় চিংড়িঘাটা সংলগ্ন ইএম বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ব্যস্ততম এই রাস্তায় যানজটের আশঙ্কায় পুলিশ এতদিন অনুমতি না দিলেও, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক পালাবদলের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল আধিকারিকদের মতে, এই সামান্য অংশের কাজ শেষ হলে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনের পথ প্রশস্ত হবে।
গতি ফিরছে থমকে থাকা অন্যান্য প্রকল্পেও
চিংড়িঘাটার জট খোলার পাশাপাশি শহরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো প্রকল্প নিয়ে আশার আলো দেখছে কর্তৃপক্ষ। জোকা-এসপ্ল্যানেড বা পার্পল লাইনের ক্ষেত্রে এসপ্ল্যানেড সংলগ্ন বি.সি. রায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত কাজ দ্রুত এগোবে। একইসঙ্গে নোয়াপাড়া-বারাসাত বা ইয়েলো লাইনের ভূগর্ভস্থ সম্প্রসারণ এবং মাইকেল নগর পর্যন্ত কাজের ক্ষেত্রেও গতি বাড়ানোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
সমন্বয়ের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
রেল মন্ত্রকের মতে, অতীতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই ছিল কলকাতায় মেট্রো সম্প্রসারণের প্রধান অন্তরায়। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জমি অধিগ্রহণের সমস্যা দ্রুত মিটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যে প্রকল্পগুলি অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে ছিল, সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চিংড়িঘাটার এই কর্মযজ্ঞ সফল হলে শহরতলি ও কলকাতার মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
