রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক! বারাসত থেকে তৃণমূলকে তীব্র হুঁশিয়ারি শমীকের

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফরের প্রাক্কালে এই ধরনের ঘটনা আদতে বিজেপিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কিন্তু বলব না: শমীক
হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সাফ জানান যে, বিজেপি সংযত রয়েছে বলেই এই নীরবতা। তাঁর কথায়, “সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কিন্তু বলব না।” শমীক আরও দাবি করেন, চন্দ্রনাথ রথ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে হত্যার পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বা দুষ্কৃতীরা এই ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিল না, তা মানতে নারাজ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।
বারাসত-মধ্যমগ্রাম অঞ্চলে অপরাধ চক্রের সক্রিয়তা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারাসত ও মধ্যমগ্রাম এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, এই অঞ্চলটি অনুপ্রবেশকারী ও জাল নথি তৈরির চক্রের একটি মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই জাল রেশন কার্ড এবং অন্যান্য পরিচয়পত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সমাজবিরোধী কার্যকলাপের পরিবেশই চন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের পথ প্রশস্ত করেছে বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব
আগামী শনিবার ব্রিগেডে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আসার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগেই এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার কারণ হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলা হলেও শাসক দল তা অস্বীকার করেছে। শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে এবং নির্বাচন বিধি বলবৎ থাকায় তিনি এখনই সব তথ্য প্রকাশ করছেন না, তবে রাজ্যপালকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সুরে দিলীপ ঘোষও এই ঘটনার জন্য রাজ্যের ‘গুন্ডা রাজনীতি’কে দায়ী করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
