সিঙ্গুর মামলায় টাটাদের স্বস্তি কেড়ে নিল হাই কোর্ট, স্থগিত ৭৬৬ কোটির ক্ষতিপূরণ

সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরি নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় এল। জমি ফেরত সংক্রান্ত মামলায় টাটা মোটরসকে ৭৬৬ কোটি টাকা ফেরানোর যে নির্দেশ ট্রাইব্যুনাল দিয়েছিল, তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী আট সপ্তাহের জন্য এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সমপরিমাণ টাকার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে বলে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।
আইনি লড়াই ও ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
বাম আমলে সিঙ্গুরে ১০০০ একর জমিতে ছোট গাড়ি তৈরির প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আন্দোলনের মুখে টাটারা রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দাবি তুলে মামলা দায়ের করে টাটা গোষ্ঠী। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয় যে, রাজ্য সরকারকে ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুধু তাই নয়, পুরো টাকা মেটানো না হওয়া পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। টাটা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সেই সময় এই রায়কে বড় জয় হিসেবে দেখা হয়েছিল।
স্থগিতাদেশের নেপথ্যে ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ দাবি করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। যদিও বিষয়টি একাধিকবার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য হাই কোর্টে ফেরত পাঠায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত নিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত বড় অঙ্কের আর্থিক দায় থেকে রেহাই পেল রাজ্য কোষাগার। তবে আট সপ্তাহ পর চূড়ান্ত শুনানিতে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ের যৌক্তিকতা বিচার করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই আইনি টানাপড়েন শিল্পমহল এবং প্রশাসনিক মহলে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে সিঙ্গুর ইস্যুটি আবারও দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়ার জালে আটকে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
