বিবাদের করুণ পরিণতি, মালদহে বিজেপি কর্মীর খুনে গ্রেফতার ২

মালদহের মহেশপুর এলাকায় কিষাণ মণ্ডল নামক এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পেশায় শ্রমিক ওই যুবক স্থানীয়ভাবে বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত হলেও, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলে খোদ গেরুয়া শিবির থেকেই দাবি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গোলাম হালদার এবং তার ছেলে সুমন হালদারকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশি তদন্ত
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কিষাণ নিজ বাড়িতেই ছিলেন। সেই সময় কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি তাকে ফোন করে বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সারারাত তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বাগানপাড়া এলাকায় কিষাণের ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি রক্তাক্ত ছুরি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই ছুরি দিয়েই কিষাণকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত শত্রুতা বনাম রাজনৈতিক বিতর্ক
নির্বাচনী আবহে রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলেও, বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিবাদ হিসেবেই দেখছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ধৃত গোলাম ও সুমনের সঙ্গে কিষাণের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা ব্যক্তিগত রেষারেষি ছিল। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনোভাবেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, বরং পুরনো শত্রুতারই চরম বহিঃপ্রকাশ।
এই নৃশংস ঘটনার জেরে এলাকায় সাময়িকভাবে শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও অন্য কারো ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নিহতের পরিজন ও প্রতিবেশীরা।
