স্কুলের ইউনিফর্ম চুরির চেষ্টায় তুলকালাম কাঁকসায়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগে সরব বিজেপি

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহের মধ্যেই দুর্গাপুরের কাঁকসায় সরকারি স্কুলের ইউনিফর্ম পাচারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কাঁকসা বিডিও অফিস সংলগ্ন একটি ক্লাব থেকে সরকারি লোগো লাগানো পোশাক পাচারের সময় হাতে-নাতে ধরে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিজেপির প্রতিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁকসা বিডিও অফিস সংলগ্ন একটি ক্লাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি বিপুল পরিমাণ স্কুল ইউনিফর্ম মজুত করে রাখা ছিল। নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই পোশাক বিলি বন্ধ ছিল। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে গোপনে সেই ক্লাব থেকে বস্তা বোঝাই পোশাক বের করে টোটোয় তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা টোটোটি আটকে দেন এবং পাচারের চেষ্টায় বাধা দেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নতুন সরকার গঠনের আগেই তথ্য-প্রমাণ লোপাট বা চুরির উদ্দেশ্যে এই পোশাকগুলি সরানো হচ্ছিল।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছান কাঁকসার বিডিও সৌরভ গুপ্ত। বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে বিডিও-র উপস্থিতিতেই টোটো থেকে পোশাকের বস্তাগুলো নামিয়ে পুনরায় ক্লাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের সম্মতিতে ওই ক্লাব ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা বিজেপির এসসি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ বিশ্বাসের অভিযোগ, অবৈধভাবে এই পোশাকগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল শাসক দল ঘনিষ্ঠ কিছু অসাধু চক্র।
প্রভাব ও কারণ
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, প্রশাসনিক স্তরে পোশাক বিতরণের সঠিক হিসাব না থাকা বা ক্ষমতার পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সরকারি সম্পত্তি সরানোর উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়ে থাকতে পারে। বিডিও জানিয়েছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি চলাকালীন এই ধরনের কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তরে সরকারি পোশাক সরবরাহ ও মজুতকরণের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাবটি সিল করে দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
