ভোটার তালিকা সংশোধন ও জয়-পরাজয়ের হিসাব, ভাঙল এসআইআর মিথ
/squirrels/media/media_files/2026/05/05/1200-x-720-2-2026-05-05-16-56-26.png)
ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল, নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে তা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে গত জুন মাস থেকে নির্বাচন কমিশনের মৃত ও অযোগ্য ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যে হাজার হাজার নাম তালিকাচ্যুত হয়েছিল, তার প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি পড়েনি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং তেরোটি এমন আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে, যেখানে সব থেকে বেশি নাম বাতিল হয়েছিল।
তৃণমূলের দাপট ও এসআইআর পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার তালিকায় শীর্ষে থাকা কুড়িটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তেরোটিতেই ঘাসফুল শিবির জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সামশেরগঞ্জ, যেখানে ৭৪,৭৭৫ জন ভোটারের নাম বাদ গেলেও তৃণমূল প্রার্থী সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন। এছাড়া লালগোলা (৫৫,৪২০ জন বাদ), ভগবানগোলা (৪৭,৪৯৩ জন বাদ), রঘুনাথগঞ্জ (৪৬,১০০ জন বাদ), মেটিয়াবুরুজ (৩৯,৫৭৯ জন বাদ) এবং সুতির মতো আসনগুলোতেও বড় ব্যবধানে জিতেছে শাসক দল। তালিকায় থাকা ফরাক্কা আসনে অবশ্য কংগ্রেস জয়ী হয়েছে, যেখানে বাদ পড়েছিল ৩৮,২২২ জন ভোটার।
বিজেপির সাফল্য ও হারের ব্যবধান
বিপরীত চিত্রও দেখা গিয়েছে বিজেপির ক্ষেত্রে। যে ১৮৭টি আসনে ৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে ১১৯টি আসনে জিতেছে বিজেপি এবং ৬৫টিতে জিতেছে তৃণমূল। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৪৭টি আসনে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ী প্রার্থীর ব্যবধানের চেয়েও বেশি। মানিকচকে ২৩ হাজার নাম বাদ পড়ার পরেও বিজেপি জিতেছে। অন্যদিকে, কেতুগ্রামে ২৬,৭৮০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, আর সেখানে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন ২৭,৬১০ ভোটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ না গেলে অনেক আসনের ফলাফল উল্টে যেতে পারত। বিশেষ করে যে ২৬টি আসন ২০২১ সালে তৃণমূলের দখলে ছিল কিন্তু এবার বিজেপি জিতেছে, সেখানে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। ফলে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের অনুপস্থিতি নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণে এক বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
