ব্রিগেডে গেরুয়া আবহে রবীন্দ্রগান, শপথের দিনে রসগোল্লা-ঝালমুড়ির স্বাদ!

কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। শনিবার রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে সাজ সাজ রব তিলোত্তমায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই মেগা অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ময়দান চত্বর। তবে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে বাধ সাধতে পারে প্রকৃতি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কালবৈশাখীর তাণ্ডব ও ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ওইদিন।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় চার হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। গোটা ব্রিগেড এলাকাকে ৩০টি সেক্টরে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেপুটি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারদের। আকাশপথে ড্রোনের নজরদারির পাশাপাশি বহুতলের ছাদে বাইনোকুলার নিয়ে পাহারায় থাকবেন কর্মীরা। ভিআইপি অভ্যাগতদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ হেলিপ্যাড। রবীন্দ্রজয়ন্তীর বিশেষ দিনে এই অনুষ্ঠান হওয়ায় সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে বাজবে রবীন্দ্রসঙ্গীত। বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে প্রবেশপথগুলোতে থাকছে বিশেষ কারুকার্য।
ঝালমুড়ি-রসগোল্লার স্বাদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা
শপথ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য থাকছে বাংলার চিরাচরিত রসগোল্লা ও ঝালমুড়ির স্টল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে আপ্যায়নে যাতে কোনো খামতি না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে আয়োজকরা। অন্যদিকে, ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির ভ্রুকুটি সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (DMG) স্ট্যান্ড-বাই রাখার পাশাপাশি জলমগ্নতা এড়াতে অনুষ্ঠানস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পাম্প। বৃষ্টির কারণে যাতে মূল অনুষ্ঠান ব্যাহত না হয়, তার জন্য ওয়াটারপ্রুফ হ্যাঙারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত মঞ্চের মাঝখানে রাজ্যপাল শপথবাক্য পাঠ করাবেন, আর পাশের মঞ্চগুলোতে আসীন থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও হবু মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
