‘ধ্বংস থেকে সৃষ্টি’, সোমনাথের লড়াইকে ভারতের অপরাজেয় প্রতীক বললেন প্রধানমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোমনাথ মন্দির পুনর্প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তিতে ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণের এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমনাথকে ভারতীয় সভ্যতার অপরাজেয় প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মন্দির বারবার প্রমাণ করেছে যে ভারতের প্রাণশক্তি ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা আসাম্ভব। বিগত এক হাজার বছরের ইতিহাসে এই মন্দির রক্ষায় এবং বারবার এটি গড়ে তুলতে যাঁরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি।
ইতিহাস ও ঐক্যের সংহতি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কথা। ১৯৪৭ সালে ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে প্যাটেলই প্রথম সোমনাথ পুনর্নির্মাণের সংকল্প করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তৎকালীন রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ১৯৫১ সালে এই মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারতের সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। রাজা ভোজ থেকে অহল্যাবাই হোলকার এবং বীর হামিরজি গোহিলের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের অবদান এই মন্দিরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
বিকাশ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ‘বিকাশ’ ও ‘ঐতিহ্য’—এই দুই ধারার সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। কাশী, অযোধ্যা বা সোমনাথের মতো পবিত্র স্থানগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক চেতনাকে রক্ষা করতে তাঁর সরকার দায়বদ্ধ। মোদির মতে, ভারতের প্রতিটি প্রান্ত ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে এক অবিচ্ছেদ্য পবিত্র ভূমি এবং ঐক্যের সূত্রে বাঁধা। সোমনাথের এই ৭৫ বছরের পথচলা ভারতীয়দের প্রতিকূলতা কাটিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।
এক ঝলকে
- সোমনাথ মন্দির পুনর্প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।
- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।
- আগামী ১১ মে প্রধানমন্ত্রী সোমনাথ সফর করবেন এবং সেখানে এক হাজার দিনব্যাপী বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
- আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যকে রক্ষা করার সরকারি সংকল্প পুনব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
