পাঁচ দশক পর ফের মসনদে ‘ভূমিপুত্র’, বাংলার ব্যাটন শুভেন্দুর হাতে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিপ্লবের মাটি থেকে উঠে এসে এবার বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের কুর্সিতে বসতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যাত্রা শুরু করবেন তিনি। এই ঘোষণার পরেই খুশির জোয়ার দেখা দিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শান্তিকুঞ্জ থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামের প্রতিটি প্রান্তে। কর্মী-সমর্থকদের আবির খেলা আর উৎসবের মেজাজই বলে দিচ্ছে, মেদিনীপুরের ঘরের ছেলেকে রাজ্যের মসনদে দেখতে পাওয়ার আবেগ কতটা গভীর।
জেলায় ফিরছে হারানো গৌরব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ আসলে জেলা রাজনীতির এক ঐতিহাসিক জয়। দীর্ঘ বাম জমানায় মেদিনীপুর ছিল সিপিএমের দুভেদ্য দুর্গ, যা চুরমার হয়েছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলনের হাত ধরে। শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসতেন যে, বাম ও তৃণমূল জমানায় মন্ত্রিত্ব থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সবই ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। এবার জেলা থেকে রাজ্য পরিচালনার সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ১৯৭৭ সালে অজয় করের পর এই প্রথম কোনো ভূমিপুত্র জেলা থেকে গিয়ে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের শীর্ষস্থানে বসতে চলেছেন।
আন্দোলনের ভূমি ও আগামীর সম্ভাবনা
তাম্রলিপ্ত সরকার এবং মাতঙ্গিনী হাজরার স্মৃতি বিজড়িত এই জেলা বরাবরই আন্দোলনের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। সেই লড়াইয়ের ঐতিহ্য বজায় রেখে শুভেন্দু অধিকারীও নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছেন আন্দোলনের পথেই। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা এবং সর্বশেষ নির্বাচনে বিজেপিকে ২০৭টি আসনে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যে তাঁর কারিশমাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। জেলার এক বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় দীর্ঘদিনের ‘উপেক্ষিত’ জেলাগুলোতে উন্নয়নের ভারসাম্য ফিরবে এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী।
- দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পূর্ব মেদিনীপুরের কোনো ভূমিপুত্র বাংলার প্রশাসনিক প্রধান হচ্ছেন।
- তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
- নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রধান মুখ থেকে বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছানোর মাধ্যমে জেলা রাজনীতির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেল।
