দুর্নীতি ছাপিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে চিনের দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড!

দুর্নীতি ছাপিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে চিনের দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড!

চিনের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করে দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টিকে সাধারণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হিসেবে দেখা হলেও, চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘পিএলএ ডেইলি’ এখন একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘আনুগত্যের অভাব’ হিসেবে বর্ণনা করছে। চিনের ইতিহাসে এত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ এর আগে কখনও দেখা যায়নি, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

ক্ষমতার অন্দরে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দায়িত্ব পালন করা এই দুই মন্ত্রীর পতন নিছক আর্থিক কেলেঙ্কারি নয়। সরকারি প্রতিবেদনে “বিশ্বাসভঙ্গ” এবং “পার্টির নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা”র মতো শব্দ ব্যবহার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পর্দার আড়ালে কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত বা ক্ষমতার লড়াই চলছিল। বিশেষ করে লি শাংফুকে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া এবং এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্তটি জিনপিংয়ের ক্ষমতা সুসংহত করার কঠোর বার্তারূপে দেখা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীতে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কৌশল

চিনা সামরিক সংস্থার পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, যাঁদের হাতে অস্ত্র থাকে তাঁদের জন্য আনুগত্যই শেষ কথা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জিনপিং সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্তরে যেকোনো ধরনের অবাধ্যতা বা ভিন্নমত দমনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন। এই ঘটনাটি চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অস্বচ্ছতাকে আরও প্রকট করেছে, যা বিশ্বজুড়ে রণকৌশল বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। মূলত ক্ষমতার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই নজিরবিহীন শাস্তির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • চিনের দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • দুর্নীতির অভিযোগ ছাপিয়ে বর্তমানে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
  • প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্যের অভাবকে এই চরম শাস্তির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
  • চিনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি শীর্ষ সামরিক কর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোরতম পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *