গাড়ি নেই গয়নাও নেই, বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর জৌলুসহীন জীবন অবাক করবে আপনাকে!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/08/suvendu-adhikari-2026-05-08-17-29-24.jpg)
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তিনি। এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পদ নিয়ে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বাংলার এই হেভিওয়েট নেতার জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাটা।
না আছে ব্যক্তিগত গাড়ি না আছে সোনা
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া তো দূরের কথা, এই হাই-প্রোফাইল নেতার নামে নিজস্ব কোনো গাড়ি বা বিলাসবহুল যানবাহন নেই। এমনকি তাঁর কোনো সোনার গয়নাও নেই। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তিনি মূলত ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC), কিষাণ বিকাশ পত্র এবং এলআইসি (LIC)-র ওপর ভরসা রেখেছেন।
স্থাবর সম্পত্তি ও আয়ের উৎস
শুভেন্দু অধিকারীর আয়ের প্রধান উৎস বিধায়ক পদের বেতন, সাংসদ হিসেবে প্রাপ্ত পেনশন এবং নিজস্ব ব্যবসা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার কিছু বেশি। তাঁর স্থাবর সম্পত্তির সিংহভাগই অধিকারীদের গড় পূর্ব মেদিনীপুরে অবস্থিত। নন্দীগ্রামের কৃষি জমি, তমলুকের ফ্ল্যাট ও পৈতৃক বাড়ি মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ৬১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় কোনো ঋণের বোঝা নেই।
বিলাসবহুল জীবনযাপনের বদলে এই পরিমিত জীবনচর্যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন জৌলুসহীন জীবনযাপনের চিত্র আমজনতার কাছে তাঁর ভাবমূর্তিকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে। কোনো দেনা ছাড়াই বাংলার শাসনভার গ্রহণ করতে যাওয়া শুভেন্দুর এই ‘ক্লিন ইমেজ’ আগামী দিনে প্রশাসনের কাজে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- শুভেন্দু অধিকারীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা।
- নিজের কোনো গাড়ি বা সোনার গয়না নেই, হাতে নগদ মাত্র ১২ হাজার টাকা।
- বার্ষিক আয় ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার বেশি এবং নেই কোনো ঋণের বোঝা।
- স্থাবর সম্পত্তির বেশিরভাগই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও তমলুকে অবস্থিত।
