২৫-এ বৈশাখের শপথ: গেরুয়া ঝড়ে ‘বাঙালি অস্মিতা’র খোঁজে রবীন্দ্র-স্মরণেই নতুন সরকারের পথচলা – এবেলা

২৫-এ বৈশাখের শপথ: গেরুয়া ঝড়ে ‘বাঙালি অস্মিতা’র খোঁজে রবীন্দ্র-স্মরণেই নতুন সরকারের পথচলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাঙালির মনন, দর্শন এবং সংকটের চিরন্তন আশ্রয়স্থল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবার ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হাজির হয়েছেন। পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির কাছে কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি আত্মপরিচয় ও আবেগের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, বঙ্গ রাজনীতির পালাবদলের ইতিহাসে কবিগুরু আর কেবল সাহিত্যিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন রাজনৈতিক বৈধতা ও অস্মিতা প্রমাণের এক অনিবার্য হাতিয়ার।

সংস্কৃতির মোড়কে রাজনৈতিক কৌশল

বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২৫শে বৈশাখের এই দিনটি এক বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়লাভের পর শপথগ্রহণের দিন হিসেবে এই পবিত্র দিনটিকে বেছে নেওয়া কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বিশেষ করে বিজেপি যখন অতীতে বারবার ‘বহিরাগত’ তকমা বা হিন্দি বলয়ের দল হিসেবে সমালোচিত হয়েছে, তখন কবিগুরুর জন্মদিনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা বাঙালির হৃদস্পন্দনের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতাদের ধুতি-পাঞ্জাবিতে সজ্জিত হওয়া মূলত বাঙালির দীর্ঘদিনের সেই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ন্যারেটিভকে নিজেদের পক্ষে আনার এক গভীর প্রয়াস।

সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার ও চ্যালেঞ্জ

রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার বাংলা’ কিংবা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’—এই কালজয়ী দর্শনগুলোকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা নতুন নয়। তবে নতুন সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এই দর্শনকে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি থেকে বের করে প্রশাসনিক পদক্ষেপে বাস্তবায়িত করা। রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই নিজেদের স্বার্থে মনীষীদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মুক্তবুদ্ধির আদর্শ যদি বাস্তবে প্রতিফলিত না হয়, তবে এই শপথগ্রহণ কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই থেকে যাবে।

এক ঝলকে

  • ১৬৫তম রবীন্দ্র জয়ন্তীতে বঙ্গ রাজনীতির পটপরিবর্তন ও আদর্শিক লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
  • বাঙালির আবেগ ও অস্মিতা স্পর্শ করতে রাজনৈতিক দলগুলো রবীন্দ্রনাথের ভাবমূর্তিকে প্রধান হাতিয়ার করছে।
  • বহিরাগত তকমা ঘুচিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে পঁচিশে বৈশাখকে শপথের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
  • রাজনৈতিক স্লোগানের বাইরে রবীন্দ্র দর্শনকে প্রশাসনিক স্তরে কার্যকর করাই এখন নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *