১৫ বছরের রাজত্বের অবসান: ভরাডুবির পর তৃণমূলের নিশানায় অভিষেক ও আইপ্যাক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এই দলের শীর্ষ নেতাদের বড় অংশই এখন হারের জন্য সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-কে (I-PAC) কাঠগড়ায় তুলছেন। বিশেষ করে দলের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতারা অভিষেকের ‘কর্পোরেট স্টাইল’ রাজনীতি এবং তৃণমূলের আদি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন।
অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও নেতৃত্বের সংকট
দলের একাধিক নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বদলে কর্পোরেট হাউসের মতো চালানোর চেষ্টা করেছেন, যা বাংলার সাধারণ মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। মালদহের প্রবীণ নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সরাসরি অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ধীরে ধীরে দলকে শেষ করে দিয়েছেন। অনেক নেতার দাবি, তৃণমূলের মতো গণআন্দোলন থেকে উঠে আসা দল কখনওই আধুনিক প্রযুক্তি বা ডেটা বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে চলতে পারে না; এখানে প্রয়োজন ছিল নিচুতলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, যা এই নির্বাচনে পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল।
আইপ্যাক বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ
পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণে নেতাদের তীরের অন্যতম লক্ষ্য প্রশান্ত কিশোরের হাতে তৈরি সংস্থা আইপ্যাক। অভিযোগ উঠেছে, এই সংস্থার কর্মীরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি চড়ে এলাকায় ঘুরেছেন এবং দলের পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মীদের অবজ্ঞা করেছেন। এমনকি, অনেক প্রাক্তন বিধায়ক ও নেতা বিমূর্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, আইপ্যাক টাকার বিনিময়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছিল। এই ‘পেমেন্ট ফর টিকিট’ সংস্কৃতির কারণেই বহু জয়ী প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যোগ্য নেতারা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি দলেরই একটি বড় অংশের।
অভ্যন্তরীণ কলহ ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলে ইস্তফা ও রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বরা রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে চারজন মুখপাত্রকে শোকজ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ব্যাপক বিদ্রোহের ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। একদিকে প্রবীণ নেতাদের ব্রাত্য করে রাখা এবং অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা—সব মিলিয়ে এই বিপর্যয় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার পতন হয়েছে।
- হারের জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কর্পোরেট রাজনীতি’ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে দায়ী করছেন দলের প্রবীণ নেতারা।
- পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে টিকিট বিক্রি ও তৃণমূলের মূল আদর্শ নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীসভার একাধিক হেভিওয়েট সদস্য নিজেদের কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
