ব্রিগেডে গেরুয়া বিজয়োল্লাস: বাংলার মসনদে ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু, সঙ্গী ৫ রথী

মে মাসের তপ্ত দুপুরে গড়ের মাঠে আছড়ে পড়ল গেরুয়া আবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ইতিহাস গড়ল বিজেপি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভের পর আজ বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিয়েছেন দলের অভ্যন্তরে তাঁর দাপট এখন প্রশ্নাতীত। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিলমোহর পাওয়ার পর মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের হাতেই শেষ পর্যন্ত বাংলার ব্যাটন তুলে দেওয়া হলো।
শুভেন্দুর সারথি হলেন পঞ্চপাণ্ডব
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আজ রাজভবনের পরিবর্তে ব্রিগেডের মঞ্চে শপথ নিয়েছেন তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম পাঁচ সদস্য। এই ‘পঞ্চপাণ্ডব’ তালিকায় রয়েছেন খড়্গপুর সদরের দিলীপ ঘোষ, আসানসোল দক্ষিণের অগ্নিমিত্রা পাল এবং বনগাঁ উত্তরের মতুয়া প্রতিনিধি অশোক কীর্তনিয়া। এছাড়াও আদিবাসী মুখ হিসেবে বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু এবং উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে নিশীথ প্রামাণিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে প্রথম দিনে কাউকেই নির্দিষ্ট দপ্তর দেওয়া হয়নি; নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত হবে।
দিল্লি নেতৃত্বের আস্থায় মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র
বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম মনোনীত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তিনি নির্বাচনের আগেই বাংলার ভূমিপুত্রকে মুখ্যমন্ত্রী করার যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করা হয়েছে। শুভেন্দুর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর একক লড়াইকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছে দিল্লি। তবে প্রথম তালিকায় শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের নাম না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হলেও, মনে করা হচ্ছে পরবর্তী সম্প্রসারণে উত্তরবঙ্গের আরও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্রিগেডে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
- শুভেন্দুর সঙ্গে মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক।
- নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে নজির গড়েছেন শুভেন্দু।
- প্রথম দিন কাউকে দপ্তর বরাদ্দ করা হয়নি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে নবান্নের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে।
