‘বিরোধী’ আসনে অভিষেক! শুভেন্দুর শপথের দিনেই হুঙ্কার তৃণমূল সেনাপতির

ক্ষমতা হারিয়ে এবার কি লড়াইয়ের নতুন দিশা খুঁজছে তৃণমূল! ঠিক যখন ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, তখনই সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সময়ের শাসক দল হিসেবে নয়, বরং নিজেকে এবং নিজের দলকে ‘বিরোধী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি রাজ্য রাজনীতির নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন। তবে হার স্বীকার করলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নিজের পুরনো অবস্থানেই অনড় রয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচন ছিল অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারকে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ইভিএম স্থানান্তর, কন্ট্রোল ইউনিটের অসঙ্গতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছেন যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা আজ সংকটের মুখে। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনী ফলাফল প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
বিরোধী আসনে কড়া লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
পরাজয় মেনে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গ—উভয় ক্ষেত্রেই এক শক্তিশালী ও আপসহীন বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানান অভিষেক। একইসঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি সরাসরি তাঁর সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক ঝলকে
- তৃণমূল কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিরোধী দল’ হিসেবে উল্লেখ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ।
- গণতন্ত্র রক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজপথে আপসহীন লড়াইয়ের ঘোষণা।
- আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরাসরি যোগাযোগ ও আইনি সাহায্যের আশ্বাস।
