২৫ বৈশাখে বাংলার নবজাগরণ: শপথ নিয়ে সোজা জোড়াসাঁকোয় শুভেন্দু, কণ্ঠে ঐক্যের সুর – এবেলা

২৫ বৈশাখে বাংলার নবজাগরণ: শপথ নিয়ে সোজা জোড়াসাঁকোয় শুভেন্দু, কণ্ঠে ঐক্যের সুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পঁচিশে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে ব্রিগেডের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের রাজকীয় অনুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি পৌঁছে যান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। সেখানে বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে তিনি এক নতুন রাজনৈতিক ঘরানার ইঙ্গিত দেন। কোনও প্রকার তিক্ততা বা বিতর্কের পথে না হেঁটে অত্যন্ত সংযত কণ্ঠে তিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি এখন আর কোনও নির্দিষ্ট দলের নন, বরং রাজ্যের সাত কোটি মানুষের মুখ্যমন্ত্রী।

সাংস্কৃতিক শিকড় ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা

২০৭টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের প্রধান হিসেবে শুভেন্দুর এই ‘ঐক্যের বার্তা’ রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে শপথ নেওয়ার পর তাঁর জোড়াসাঁকো সফর মূলত বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার প্রচেষ্টা। মেদিনীপুরের এই ভূমিপুত্র স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কবিগুরুর চেতনা ও ভাবনাকে পাথেয় করেই তিনি বাংলার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। বিভেদ নয়, বরং ‘শুভবুদ্ধির উদয়’ ও ‘নবজাগরণ’ই হবে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রশাসনিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

শুভেন্দুর সাথে এদিন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল ও নিশীথ প্রামাণিকদের শপথ গ্রহণ আঞ্চলিক ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে শপথ এবং পরবর্তীতে ‘সকলের মুখ্যমন্ত্রী’ হওয়ার অঙ্গীকার আদতে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করার কৌশল। বিরোধীদের পরিবারতন্ত্র ও অন্তর্কোন্দলের বিপরীতে শুভেন্দুর এই সংযত এবং সাংস্কৃতিক ভাবমূর্তি আগামী দিনে রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দায়িত্ব পালনের এই নতুন অধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে সংঘাতের বদলে সহযোগিতার বাতাবরণ তৈরি করতে পারে।

এক ঝলকে

  • পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
  • শপথের পর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে ‘সকলের মুখ্যমন্ত্রী’ হওয়ার অঙ্গীকার।
  • শুভেন্দুর সাথে মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় শপথ নিয়েছেন আরও পাঁচজন সদস্য।
  • রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে এই ক্ষমতা হস্তান্তরকে বাংলার রাজনীতিতে ‘নবজাগরণ’ হিসেবে দেখছে শাসক শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *