রাতে ছদ্মবেশে পুলিশ কমিশনার, ৩ ঘণ্টায় ৪০ পুরুষের কুপ্রস্তাব ও এক শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা
মহিলাদের জন্য রাতের শহর কতটা নিরাপদ, তা যাচাই করতে অভিনব এক পদক্ষেপ নিলেন আইপিএস অফিসার বি সুমতী। তেলঙ্গানার মাল্কাজগিরির প্রথম মহিলা কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি কোনো নিরাপত্তা রক্ষী বা কনভয় ছাড়াই সাধারণ পোশাকে রাস্তায় নামেন। রাত সাড়ে ১২টা থেকে পরবর্তী ৩ ঘণ্টা দিলসুখনগরের একটি বাসস্টপে একা দাঁড়িয়ে থেকে তিনি সমাজের এক অন্ধকার বাস্তব প্রত্যক্ষ করেন।
নিরাপত্তার বাস্তব পরীক্ষা
ছদ্মবেশে থাকা এই নারী পুলিশকর্তার সামনে মিনিট কয়েকের মধ্যেই একের পর এক পুরুষ ভিড় করতে শুরু করে। কেউ অশালীন কথা বলে উত্যক্ত করার চেষ্টা করে, আবার কেউ মদ্যপ অবস্থায় কুপ্রস্তাব দেয়। মাত্র ১৮০ মিনিটে প্রায় ৪০ জন পুরুষ তাঁর আশেপাশে ঘুরঘুর করে এবং হেনস্তার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে আড়ালে থাকা পুলিশের বিশেষ টিম হস্তক্ষেপ করে কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করে।
মাঠপর্যায়ের সাহসী নেতৃত্ব
বি সুমতীর এই উদ্যোগ দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কৃষিবিদ্যা ও নিরাপত্তা আইনে উচ্চশিক্ষিত এই অফিসার ২০০৬ ব্যাচের আইপিএস। এর আগে মাওবাদী দমনেও তিনি অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছেন, যার ফলে প্রায় ৫৯১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কেবল ফাইলের রিপোর্টে বিশ্বাস না করে সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি বোঝার এই মানসিকতা তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
প্রভাব ও সামাজিক বার্তা
এই ঘটনার মাধ্যমে শহরের নারী নিরাপত্তার প্রকৃত চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কমিশনার সুমতী প্রমাণ করেছেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি বা স্মার্ট পুলিশিং থাকলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আজও কাম্য। তাঁর এই সাহসী পরীক্ষা সাধারণ নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও নজরদারি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- আইপিএস বি সুমতী মাল্কাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে রাতে একা বাসস্টপে দাঁড়িয়ে ছদ্মবেশে নিরাপত্তা যাচাই করেন।
- ৩ ঘণ্টার এই অভিযানে প্রায় ৪০ জন পুরুষ তাঁকে উত্যক্ত করে এবং কুপ্রস্তাব দেয়।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আড়ালে মোতায়েন ছিল পুলিশের বিশেষ ব্যাকআপ টিম।
- এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার দশা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।
