রাতের শহরে একা নারী কতটা নিরাপদ! ৩ ঘণ্টায় ৪০ পুরুষের কুপ্রস্তাবে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আইপিএস সুমতী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিরাপত্তার প্রকৃত চিত্র বুঝতে মাঝরাতে কোনো দেহরক্ষী বা কনভয় ছাড়াই সাধারণ পোশাকে রাস্তায় নেমেছিলেন দুঁদে আইপিএস অফিসার বি সুমতী। হায়দরাবাদের দিলসুখনগর বাসস্টপে সাধারণ এক নারীর বেশে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেন তিনি। এই সামান্য সময়ের মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তাঁর আশেপাশে ভিড় করে এবং কুরুচিকর প্রস্তাব দেয়। পুলিশ কমিশনারের এই ছদ্মবেশী অভিযান শহরের নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার অবস্থাকেই যেন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
মাঠপর্যায়ে সাহসী অনুসন্ধান
তেলঙ্গানার এক সাধারণ গ্রাম থেকে উঠে আসা এই আইপিএস অফিসার বরাবরই বাস্তবসম্মত পুলিশিংয়ে বিশ্বাসী। গত মে মাসে মাল্কাজগিরির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি ঠিক করেন, স্রেফ নথিপত্রে নয়, বরং বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে নারীদের সুরক্ষা পরখ করবেন। তাঁর এই অভিযানে দেখা যায়, মদ্যপ ও সুযোগসন্ধানী পুরুষরা কীভাবে একা নারীকে উত্যক্ত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে কাছাকাছি ওত পেতে থাকা পুলিশের বিশেষ টিম কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করে।
প্রভাব ও প্রশাসনিক কঠোরতা
সুমতীর এই সাহসী পদক্ষেপ দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এর ফলে স্থানীয় থানাগুলোর টহলদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পুলিশিং থাকলেও, সাধারণ পোশাকে নজরদারি চালানো এবং অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শনাক্ত করা নারী সুরক্ষায় বেশি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে রাতজাগা শহরগুলোতে কর্মজীবী নারীদের চলাফেরা নিরাপদ করতে এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন সুরক্ষা বলয় তৈরি হতে যাচ্ছে।
এক ঝলকে
- আইপিএস বি সুমতী সাধারণ পোশাকে মাঝরাতে বাসস্টপে দাঁড়িয়ে নারী নিরাপত্তার বাস্তব পরীক্ষা নেন।
- মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৪০ জন পুরুষ তাঁকে উত্যক্ত করে এবং আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়।
- অভিযানে অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশের বিশেষ টিম।
- মাওবাদী দমন অভিযানে সফল এই অফিসারের এমন উদ্যোগ পুলিশিং ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
