কেন স্কুল ছাড়ছে মাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীরা? নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ফাঁস হলো আসল কারণ

দেশের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের মে মাসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। ‘ভারতবর্ষে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের স্কুল ছেড়ে দেওয়ার হার বা ‘ড্রপ আউট রেট’ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংস্কারমূলক নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও জাতীয় স্তরে দেখা যাচ্ছে, প্রতি দশজন মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন মাঝপথেই পড়াশোনা বন্ধ করে দিচ্ছে।
ভৌগোলিক বৈষম্য ও রাজ্যের পরিসংখ্যান
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্কুলছুটের এই হার সব রাজ্যে সমান নয়। যেখানে চণ্ডীগড় (২%), ঝাড়খণ্ড (৩.৫%) এবং কেরালায় (৪.৮%) এই হার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু বড় রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। গুজরাটে স্কুলছুটের হার ১৬.৯ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশে ১৬.৮ শতাংশ এবং লাদাখে ১৬.২ শতাংশ। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়েও এই হার ১৫ শতাংশের উপরে। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলো, যেখানে গত এক দশকে স্কুলছুটের হার কয়েক গুণ কমানো সম্ভব হয়েছে।
সংকটের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
মাধ্যমিক স্তরে এই ধারাবাহিক স্কুলছুটের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে নীতি আয়োগ। প্রথমত, প্রান্তিক পরিবারগুলোর ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ; দ্বিতীয়ত, অল্প বয়সেই কর্মসংস্থানে যোগ দেওয়ার প্রবণতা এবং তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাব। মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর এই ঝরে পড়ার হার কমানো না গেলে দেশের উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। জাতীয় গড় ১১.৫ শতাংশে নেমে এলেও, বড় রাজ্যগুলোর পিছিয়ে থাকা সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোর দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
