নিজের মন্তব্যের ফাঁদেই এবার নাজেহাল অভিষেক, শান্তিনিকেতনের সামনে ডিজে বাজিয়ে বিজেপির হুঙ্কার!

নির্বাচনী প্রচারের উত্তপ্ত আবহে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই বহুচর্চিত ‘ডিজে’ মন্তব্যটিই এখন তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি যে ডিজে সংস্কৃতির কথা বলেছিলেন, বর্তমানে জয়ের পর সেই অস্ত্রকেই পালটা উদযাপনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। রাজ্যে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে অভিষেকের বাড়ির সামনে বিজেপি কর্মীদের এই জমায়েত এবং উল্লাস রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বুমেরাং হয়ে ফিরল সেই বিতর্কিত হুঙ্কার
তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এর সামনে উৎসবের আবহ তৈরি করেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কয়েক দিন আগে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর অফিসের সামনে যে ডিজে বাজানোর দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, এদিন সেই একই ছবি ফুটে উঠল তাঁর বাসভবনের সামনেও। বড় বড় সাউন্ড বক্সে ডিজে বাজিয়ে বিজেপি কর্মীদের উদ্দাম নাচ এবং জয়ের স্লোগান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী মন্তব্যকেই ব্যঙ্গাত্মকভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের সময় করা বিতর্কিত মন্তব্যগুলো যে সবসময় ইতিবাচক ফল দেয় না, এই ঘটনাটি তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রভাব
এই ধরনের কর্মসূচির পেছনে মূলত রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং জয়ের উন্মাদনা। নির্বাচনের সময় দুই শিবিরের মধ্যে যে কড়া বাগযুদ্ধ চলেছিল, এই ডিজে বাজানো সেই তিক্ততারই একটি বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিবেশ আরও বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তৃণমূলের অন্দরেও এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির এই আক্রমণাত্মক উদযাপন আগামী দিনে বিরোধীদের নৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর ফলে নবান্ন ও কালীঘাটের লড়াই যে রাজপথের উত্তাপে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
