অবাক কাণ্ড! নিজের পদাবনতি চাইলেন পুলিশ অফিসার, সাব-ইন্সপেক্টর থেকে স্বেচ্ছায় হলেন কনস্টেবল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্তের খবরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে দেশটির প্রশাসনিক মহলে। সচরাচর মানুষ যখন কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির জন্য মুখিয়ে থাকেন, সেখানে উত্তর-পূর্ব দিল্লির কারাওয়াল নগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মনীশ স্বেচ্ছায় নিজের পদাবনতি বা ‘ডিমোশন’ চেয়ে আবেদন করেছেন। তার এই অদ্ভুত আর্জি শুনে খোদ ডিসিপি (ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ) তাকে সাব-ইন্সপেক্টর পদ থেকে সরিয়ে পুনরায় কনস্টেবল পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
ব্যতিক্রমী আর্জির নেপথ্যে বড় স্বপ্ন
বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, মনীশ কনস্টেবল হিসেবেই তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি সাব-ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান। তবে নতুন পদে যোগদানের পর থেকেই কাজের প্রচণ্ড চাপ এবং দায়িত্বের ভার তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। মূলত উচ্চতর কোনো বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নিবিষ্ট মনে পড়াশোনা করতে চাইছেন তিনি। সাব-ইন্সপেক্টর পদের ব্যস্ততা ও দায়িত্ব সামলে পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা তার পক্ষে আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই অনেকটা ঠান্ডা মাথাতেই তিনি নিজের পদমর্যাদা কমিয়ে আনার এই সিদ্ধান্ত নেন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মনীশের এই আবেদন জমা পড়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেন। বিভাগীয় কোনো মামলা, অপরাধমূলক রেকর্ড বা ভিজিল্যান্স তদন্ত পেন্ডিং রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হয়। সবক্ষেত্রে ক্লিনচিট পাওয়ার পরই ডিসিপি তার আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাকে পুনরায় কনস্টেবল পদে পদস্থ করার নির্দেশ দেন।
পুলিশি কাঠামোয় এমন ঘটনা বিরল হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত লক্ষ্যের ভারসাম্য রক্ষার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। পদমর্যাদার চেয়ে নিজের লক্ষ্য পূরণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে মনীশ প্রমাণ করেছেন যে, বড় অর্জনের জন্য সাময়িক পিছু হটা বা ত্যাগ স্বীকার করতেও অনেকে দ্বিধা করেন না। তবে এই পরিবর্তনের ফলে তার বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
