“কংগ্রেস হলো ‘পরাশ্রয়ী’ দল, শুধু ঠকাতেই জানে!”— বেঙ্গালুরু থেকে তোপ মোদির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে এক জনসভা থেকে কংগ্রেসকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন। হাত শিবিরকে ‘পরাশ্রয়ী’ বা পরজীবী (প্যারাসাইটিক) আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এই দল এখন নিজস্ব শক্তি হারিয়ে আঞ্চলিক দলগুলোর ওপর ভর করে টিকে থাকতে চাইছে। মোদির মতে, কংগ্রেস শুধু মিত্রপক্ষকে ঠকাতেই জানে এবং তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সুশাসনের কোনো স্থান নেই।
আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণ ও কংগ্রেসের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের নেপথ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ডিএমকে-র সঙ্গ ত্যাগ করে কংগ্রেস এখন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি জোসেফ বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (টিভিকে)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। চেন্নাইয়ে বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধির উপস্থিতি সেই সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে। মোদি ইঙ্গিত দেন, একক শক্তিতে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে কংগ্রেস এখন একের পর এক নতুন ‘খুঁটি’র সন্ধানে ব্যস্ত।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত
মোদির দাবি, কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোতে সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয় এবং কোনো রাজ্যেই তারা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে পারছে না। তাঁর মতে, কংগ্রেসের ‘ভুয়ো গ্যারান্টি’ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই দলটির পতনের প্রধান কারণ।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে গত ৬০ বছরের প্রথা ভেঙে ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র বাইরে অন্য দল হিসেবে বিজয়ের ক্ষমতা দখল দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন মোড় এনেছে। বিজয় বিজেপিকে তাঁর ‘আদর্শগত শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করায় আগামী দিনে কেন্দ্রের শাসক দলের সাথে রাজ্যের এই নতুন শক্তির সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মেরুকরণের আবহে কংগ্রেসের ভূমিকা জাতীয় রাজনীতিতে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
