আদালতেই ধর্ষককে গণপিটুনি ও কুপিয়ে খুন! বিচার না পেয়ে আইন হাতে তুলে নিলেন শয়ে শয়ে মহিলা – এবেলা

আদালতেই ধর্ষককে গণপিটুনি ও কুপিয়ে খুন! বিচার না পেয়ে আইন হাতে তুলে নিলেন শয়ে শয়ে মহিলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নাগপুরের আক্কু যাদব হত্যাকাণ্ড একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে স্মরণ করা হয়। দীর্ঘ এক দশক ধরে ত্রাসের রাজত্ব চালানো এক কুখ্যাত অপরাধীকে যখন আদালত ও পুলিশ বারবার সুরক্ষা দিচ্ছিল, তখন বিচার না পেয়ে চূড়ান্ত পথ বেছে নিয়েছিলেন স্থানীয় শত শত নারী। ২০০৪ সালের সেই ঘটনাটি আজও আইনি দীর্ঘসূত্রতা ও সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে আছে।

দশকের পর দশক চলা সন্ত্রাস ও পুলিশের ভূমিকা

মহারাষ্ট্রের নাগপুরের কস্তুরবানগর বস্তি এলাকায় আক্কু যাদব ছিল এক মূর্ত আতঙ্ক। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সে এবং তার দলবল নির্বিচারে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং খুন চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, কোনো পরিবার অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ উল্টো তাদেরই লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিত। এমনকি কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও রহস্যজনকভাবে বারবার সে জামিন পেয়ে যেত। জামিনে বেরিয়ে এসে অভিযোগকারীদের ওপর এসিড নিক্ষেপ বা প্রাণঘাতী হামলা চালানো তার নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বারবার বেরিয়ে আসার ফলে তার অপরাধের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যায়।

আদালত কক্ষেই গণবিক্ষোভ ও চূড়ান্ত পরিণতি

২০০৪ সালের ১৩ আগস্ট আক্কু যাদবকে যখন শুনানির জন্য আদালতে আনা হয়, তখন সেখানে উপস্থিত হন প্রায় ২০০ জন নারী। তাদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও প্রশাসন বিচার করার বদলে ধর্ষককেই পরোক্ষ সুরক্ষা দিচ্ছে। বেলা ৩টার দিকে ক্ষুব্ধ নারীরা মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে এবং পাথর ছুড়ে পুলিশের কর্ডন ভেঙে আক্কুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৫ মিনিটের সেই প্রচণ্ড আক্রোশে তারা ছুরি ও পাথর দিয়ে তাকে আক্রমণ করেন। নির্যাতিত নারীদের সেই দীর্ঘদিনের জমাট বাধা ক্ষোভের মুখে পুলিশ অসহায় হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই আক্কু যাদবের মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রভাব ও আইনি মোড়

এই ঘটনার পর ওই নারীরা নিজেরাই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে গ্রেফতার হওয়ার দাবি জানান। তবে জনমত ছিল সম্পূর্ণভাবে তাদের পক্ষে। এমনকি আইনজীবীরাও এই নারীদের স্বপক্ষে দাঁড়ান এবং তাদের শাস্তি না দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। কয়েক বছর ধরে চলা এই মামলায় আদালত শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও দীর্ঘদিনের অবিচার বিবেচনা করে জড়িত নারীদের নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দেয়। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যখন বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজে চরম বিশৃঙ্খলা ও আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এটি একই সাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর সামাজিক বার্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *