‘মশা বাহিনী’র কামড়ে অস্থির আমেরিকা! হরমূজ প্রণালীতে ইরানের বিধ্বংসী ‘মসকিটো ফ্লিট’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বজায় রাখতে ইরান তাদের রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিশালকায় যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে তারা এখন গুরুত্ব দিচ্ছে কয়েক শ’ ছোট কিন্তু অত্যন্ত দ্রুতগামী ‘ফাস্ট অ্যাটাক বোট’-এর ওপর। সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে ‘মস্কুইটো ফ্লিট’ বা ‘মশার বাহিনী’ নামে পরিচিত এই নৌবহর এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ছোট ছোট নৌকাগুলো ব্যবহার করে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করছে।
অপ্রতিরোধ্য মশার বাহিনী ও আধুনিক সমরাস্ত্র
ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এই বিশেষ নৌবহর পরিচালনা করছে। আকারে ছোট হওয়ায় রাডারে এই নৌকাগুলোকে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিটি বোট অত্যাধুনিক মিসাইল, শক্তিশালী বন্দুক এবং বিভিন্ন মারণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত। স্বল্প খরচে তৈরি এই নৌযানগুলো সমুদ্রের বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম। সমরবিদদের মতে, বিশালাকার মার্কিন জাহাজগুলো এই দ্রুতগামী নৌকার ঝাঁককে মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ এগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং ধ্বংস করা অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ও প্রভাব
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান বর্তমানে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের জলসীমা ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছে এবং শুল্ক দাবি করছে। এমনকি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজকে আন্তর্জাতিক রুট থেকে সরিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ইরানের এই কৌশলী অবস্থান বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের এই নৌবহরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তাকারী দেশগুলোর ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
