পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ব্যর্থ! ট্রাম্পের হুঙ্কার— ‘বন্ধ হোক ইরানের খেলা’, ড্রোন হামলায় কাঁপছে পারস্য উপসাগর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ইরানের পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান এই খসড়া প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠালেও ট্রাম্প তা ‘নাকচ’ করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তেহরান আর আমেরিকার সঙ্গে কোনো ‘খেলা’ খেলতে পারবে না। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোণ হামলার তীব্রতা বেড়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংঘাতের মূলে হরমুজ প্রণালী ও ইউরেনিয়াম বিতর্ক
মার্কিন প্রশাসন ইরানের সামনে বেশ কিছু কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি উন্মুক্ত করা, ড্রোণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখা। বিশেষ করে ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ) নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব চরম উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ এবং স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছে।
সমুদ্রে ড্রোণ যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা
কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল উত্তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় সরাসরি সংঘাত শুরু হয়েছে। কাতারের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোণ হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের আকাশসীমায় ড্রোণ অনুপ্রবেশের খবর নিশ্চিত করেছে। ইউএই দাবি করেছে, তারা দুটি ড্রোণ ভূপাতিত করেছে এবং এর জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো শত শত ড্রোণ হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনীও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে কয়েক ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ ও ফেরত পাঠিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাজারে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া, ফ্রান্স ও ব্রিটেন সক্রিয় হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। ফ্রান্স ও ব্রিটেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা মিশনের প্রস্তাব দিলেও ইরান জানিয়ে দিয়েছে, কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
