১৮টি পেশার কারিগরদের ভাগ্যবদল? দেখে নিন বিশ্বকর্মা যোজনায় কারা এবং কীভাবে পাবেন সরকারি সাহায্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে শুরু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। সম্প্রতি প্রশাসনিক স্তরে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের কাছে সরাসরি কেন্দ্রীয় সহায়তা পৌঁছনোর পথ প্রশস্ত হলো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদনপত্রগুলি যাচাই করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মূলত প্রান্তিক স্তরের শিল্পী ও কারিগরদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছেন কামার, কুমোর, স্বর্ণকার, চর্মকার, নাপিত, তাঁতি, মালাকার, ধোপা, দর্জি এবং রাজমিস্ত্রিরা। এছাড়াও নৌকো তৈরির কারিগর, অস্ত্র প্রস্তুতকারক, তালা তৈরির মিস্ত্রি এবং ভাস্কররাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। মূলত যাঁরা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কায়িক শ্রম ও ছোট যন্ত্রপাতির সাহায্যে কাজ করেন, তাঁদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূল ধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার নীল নকশা
এই প্রকল্পের একটি বিশেষ দিক হলো কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধি। যোগ্য আবেদনকারীদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের দক্ষতা প্রমাণের জন্য সরকারি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, কারিগরি সরঞ্জাম কেনার জন্য সরাসরি আর্থিক অনুদান এবং ব্যবসা প্রসারের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগও থাকবে।
আবেদনের মাপকাঠি ও প্রাসঙ্গিক প্রভাব
প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। তবে শর্ত অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের অনুরূপ কোনো ঋণ-ভিত্তিক প্রকল্প (যেমন—মুদ্রা বা পিএম স্বনিধি) থেকে সুবিধা নিয়ে থাকলে এই প্রকল্পের জন্য বিবেচনা করা হবে না। এছাড়া, একই পরিবারের কেবল একজন সদস্যই আবেদন করতে পারবেন এবং সরকারি চাকুরিজীবীদের পরিবার এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় এই প্রকল্প কার্যকর হলে কয়েক লক্ষ শ্রমজীবী পরিবারের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চলের ক্ষুদ্র শিল্পীদের হাতে নগদ অর্থের জোগান বাড়লে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হতে পারে। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের এই সমন্বয় দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ কাটিয়ে কারিগরদের সরাসরি উপকৃত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
