চন্দ্রনাথ খুনের রহস্যভেদে ‘ডিজিটাল’ চাল! টোল প্লাজার সামান্য ভুলেই পুলিশের জালে ৩ ভিনরাজ্যের শার্প শুটার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী দল। বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্তকে সোমবার বারাসাত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতদের নাম মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং রাজ সিং। ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে সিআইডি ও এসটিএফের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য আসায় তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়েছে।
ডিজিটাল সূত্র ও তদন্তের অগ্রগতি
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, খুনের পর পালানোর সময় আততায়ীরা বালি টোল প্লাজায় ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে টোল ট্যাক্স মিটিয়েছিল। এই একটি মাত্র ডিজিটাল লেনদেনই পুলিশের জন্য তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়ায়। এর সূত্র ধরেই পুলিশ বিহারের বক্সার ও উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে তিন শার্প শুটারকে জালে তোলে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মধ্যমগ্রাম থানায় খুনের মামলা (কেস নং ৩৫৩) সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে ভবানী ভবনে রাতভর জেরা চলছে এই তিন অভিযুক্তের।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও পরবর্তী পদক্ষেপ
তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং পেশাদার খুনিদের কাজ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, খুনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেটটি ছিল ভুয়ো। শিলিগুড়ির এক ব্যক্তি তাঁর গাড়ি বিক্রির জন্য ‘ওএলএক্স’-এ একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করে এই জাল প্লেট তৈরি করা হয়েছিল যাতে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করা যায়।
সরকারি আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, ঘটনার শিকড়ে পৌঁছাতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো এই খুনের নেপথ্যে থাকা আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করা। কার নির্দেশে এবং ঠিক কী কারণে চন্দ্রনাথ রথকে টার্গেট করা হয়েছিল, সেই রহস্য উদঘাটনই এখন গোয়েন্দাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই গ্রেফতারির ফলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী যোগসূত্র সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
