ট্রাম্পের বিশ্বাসে বড় ধাক্কা! পাকিস্তানের এয়ারবেসে লুকিয়ে রাখা ছিল ইরানি ‘যুদ্ধবিমান’ – এবেলা

ট্রাম্পের বিশ্বাসে বড় ধাক্কা! পাকিস্তানের এয়ারবেসে লুকিয়ে রাখা ছিল ইরানি ‘যুদ্ধবিমান’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওয়াশিংটন, ১২ মে ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে যখন মার্কিন প্রশাসন ইতিবাচক হিসেবে দেখছিল, ঠিক তখনই সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। একটি সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিস্থ নূর খান বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইসলামাবাদের ওপর আস্থা রেখে শান্তির স্বপ্ন দেখছেন, তখন এই ঘটনাকে খোদ মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সুযোগ নিয়ে ইরান অত্যন্ত গোপনে তাদের অবশিষ্ট বিমান বহর রক্ষা করতে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করেছে। নূর খান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা এই বহরে ইরানি বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ (RC-130) বিমানও শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা থেকে নিজেদের সামরিক সম্পদ বাঁচাতে ইরান এই নিরাপদ আশ্রয়ের কৌশল নিয়েছে।

ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয়

পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে আসছে। এমনকি সম্প্রতি ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে শান্তি বৈঠকের আয়োজনও করা হয়েছিল। তবে গোপন বিমানঘাঁটি ব্যবহারের এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেছে। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের ওপর যে অগাধ ভরসা রেখেছিল, এই ঘটনা তার জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

অস্বীকার ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব

যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, নূর খান বিমানঘাঁটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক নজর এড়িয়ে কোনো গোপন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা আসাম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্ক কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে না, বরং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা এখন আরও প্রবল হয়ে উঠেছে। মূলত ট্রাম্পের শান্তি প্রক্রিয়ার আড়ালে পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতা প্রমাণিত হলে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ দেখা দিতে পারে।—

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *