ভোট মিটতেই বড় পদক্ষেপ: ৪২ কোটি ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে SIR-এর তৃতীয় ধাপ শুরু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ শুরু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই পর্যায়ে দেশের বাকি ১৭টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৪০ কোটি ভোটার কমিশনের এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে চলেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জুন মাসেই দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কেরালা, আসাম, পুডুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন চলায় এই প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হয়। ভোট প্রক্রিয়া মিটতেই এখন দ্রুত কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।
শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার বর্তমান চিত্র
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৯৯ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০ কোটি ভোটারকে ইতিমধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, বিহার এবং গুজরাটসহ মোট ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের শুদ্ধিকরণ শেষে দেখা গেছে, ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা ৫০.৯৯ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫.৮১ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রায় ৫.১৮ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে ১০.২ শতাংশ। মূলত ভুয়া ভোটার শনাক্তকরণ এবং মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার ফলেই এই বড় অঙ্কের পরিবর্তন এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃতীয় পর্যায়ের প্রভাব ও প্রস্তুতি
আগামী দিনগুলোতে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কর্ণাটক এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই ২২টি অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। এই ধাপে ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের তথ্য পুনরায় যাচাই করা হবে।
ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ও আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতারা। এমনকি বিহারে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় বাংলাদেশ, নেপাল ও মিয়ানমারের নাগরিকদের নাম থাকার প্রাথমিক অভিযোগ উঠলেও কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হলে ভারতের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল ও আধুনিক হবে বলে আশা করছে কমিশন।
