“৮০০০ কোটির বিমান আগে বেচুন!” পেট্রোল-ডিজেল বাঁচাতে মোদীর আবেদনে বিষ্ফোরক শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে সাধারণ মানুষকে সোনা কেনা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা ও জ্বালানি খরচ কমাতে তাঁর এই পরামর্শ বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তার বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জ্যোতিষপীঠের শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী।
সরকারের ব্যয় সংকোচন নিয়ে প্রশ্ন
সোনভদ্রে ‘গোবিন্দ যাত্রা’ চলাকালীন শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দ বলেন, সাধারণ মানুষকে ত্যাগের পরামর্শ দেওয়ার আগে শাসকদের উচিত নিজেদের জীবনযাত্রা থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। তিনি উল্লেখ করেন, যে দেশে ডলারের মূল্য ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানে সরকারের উচিত তাদের ব্যয়বহুল ৮,০০০ কোটি টাকার বিমান বিক্রি করে কম জ্বালানি খরচ হয় এমন বিমান ব্যবহার করা। তাঁর মতে, মিতব্যয়িতার শিক্ষা ‘ঘর’ অর্থাৎ খোদ প্রশাসন থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা ও প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা
হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা না কেনার এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বা বিদেশে বিয়ে করার জৌলুস বর্জন করার অনুরোধ জানান। মেক ইন ইন্ডিয়া পণ্য ব্যবহার, গণপরিবহনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো এবং কৃষিকাজে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর ওপরও তিনি জোর দেন। মূলত ৭২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের প্রভাব থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখতেই এই বিশেষ আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ঝুঁকি কমানো। তবে বিরোধী পক্ষ এবং ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ একে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন। শঙ্করাচার্যের এই প্রকাশ্য সমালোচনা জনমানসে সরকারের ব্যয়বহুল পরিকাঠামো বনাম সাধারণের কৃচ্ছ্রসাধন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে সরকারি নীতি নির্ধারণ এবং জনমত গঠনে এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
