“জনতাকে ত্যাগের পরামর্শ, নিজে করছেন রোড শো!” – মোদীকে বিঁধলেন অজয় রায় – এবেলা

“জনতাকে ত্যাগের পরামর্শ, নিজে করছেন রোড শো!” – মোদীকে বিঁধলেন অজয় রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ‘মিতব্যয়িতা’ ও ‘ত্যাগের’ আহ্বানের কড়া সমালোচনা করেছেন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রায়। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শকে ‘জনগণের সাথে প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একদিকে যখন দেশবাসীকে সোনা কেনা বা জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নিজে কেন বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ রোড শো অব্যাহত রেখেছেন?

ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত ও বর্তমান বৈপরীত্য

অজয় রায় ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে মনে করিয়ে দেন যে, সেই কঠিন সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে ৩৩৬ গ্রাম সোনা জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিলে দান করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, মোদী যদি সত্যিই দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা ভেবে থাকেন, তবে প্রথমে তাঁর উচিত নিজের বিশাল মোটর শোভাযাত্রা ছোট করা এবং বিজেপি নেতাদের জাতীয় স্বার্থে সম্পদ দান করার আহ্বান জানানো। তাঁর মতে, একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে ঠিক দুই ঘণ্টা পরই গুজরাটে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে রোড শো করা প্রধানমন্ত্রীর দ্বিমুখী আচরণকেই স্পষ্ট করে।

নির্বাচন পরবর্তী স্বীকারোক্তি ও জনজীবনের প্রভাব

কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলছেন, যা আগে গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বিজেপি শাসনামলে গত ১২ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, রান্নার গ্যাস ও শিক্ষা ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলেছে। এখন আবার সোনা কেনা বা বিদেশ ভ্রমণ কমানোর আহ্বানের ফলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে। অজয় রায়ের মতে, গত ৭০ দিন ধরে যুদ্ধ চললেও প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়েছে কেবল ভোট শেষ হওয়ার পর, যা প্রমাণ করে তাঁর কাছে জনস্বার্থের চেয়ে রাজনীতিই বড়।

উল্লেখ্য যে, গত রবিবার হায়দ্রাবাদে বিজেপির এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী অর্থনীতি মজবুত করার লক্ষ্যে দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার এবং সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ কমানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এখন উত্তাল হয়েছে জাতীয় রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *