বিনা বিচারে পেইনকিলার ও প্রোটিন পাউডার, অজান্তেই কি মৃত্যুর পথে পা বাড়াচ্ছেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ‘সেলফ মেডিকেশন’ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনের প্রবণতা। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে দ্রুত সুস্থতা পেতে অনেকেই সাধারণ মাথাব্যথা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় মুড়ি-মুড়কির মতো পেইনকিলার খাচ্ছেন। একইসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রোটিন পাউডার ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের প্রতি অতি-নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের প্রয়োজন না বুঝে এসব পণ্যের অবাধ ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্থায়ীভাবে বিকল করে দিতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত পেইনকিলার ও সাপ্লিমেন্টের ভয়াবহ প্রভাব
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা অতিরিক্ত প্যারাসিটামল সেবনের ফলে কিডনি ও লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, জিম বা ফিটনেস ধরে রাখার জন্য চিকিৎসকের অনুমোদনহীন প্রোটিন পাউডার ও ইমিউনিটি বুস্টার সেবনের ফলে রক্তে লিভার এনজাইমের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং কিডনিতে পাথর জমার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। শরীরের সঠিক চাহিদা না জেনে এসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে বমিভাব, গ্যাস্ট্রিক ও ত্বকের অ্যালার্জি এখন সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনাকালের পর থেকে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া দেখে ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা কয়েক গুণ বেড়েছে। ইন্টারনেটের তথ্যকে অভ্রান্ত মনে করে মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে সার্চ ইঞ্জিনকে বেছে নিচ্ছে। এর ফলে মূল রোগের উপসর্গগুলো সাময়িকভাবে চাপা পড়ে গেলেও শরীরের ভেতরে থাকা রোগটি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সঠিক রোগ নির্ণয় না করে এমন জীবনযাত্রার অভ্যাস বজায় থাকলে জনস্বাস্থ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা।
