‘খেলার মাঠ রাজনীতিমুক্ত হবেই’, দায়িত্ব নিয়েই বিস্ফোরক বার্তা নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর!

‘খেলার মাঠ রাজনীতিমুক্ত হবেই’, দায়িত্ব নিয়েই বিস্ফোরক বার্তা নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর!

বাংলার নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন নিশীথ প্রামাণিক। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনের পর তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি বাংলার ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতি ও পরিবারতন্ত্রের প্রভাব থেকে মুক্ত করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করা নিশীথকে নতুন এই দায়িত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছে মোহনবাগান ক্লাব।

রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন ও প্রতিভা অন্বেষণ

নিশীথ প্রামাণিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলার বিভিন্ন স্পোর্টস কমিটিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারতন্ত্রের ছায়া রয়েছে, যা প্রতিভাশালী খেলোয়াড়দের বিকাশে অন্তরায়। তাঁর মতে, উপযুক্ত পরিচর্যা ও পরিকাঠামোর অভাবে রাজ্যের বহু প্রতিভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অথবা তারা ভিন রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, “ক্রীড়াঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে যাতে বাংলার খেলোয়াড়রা সঠিক প্ল্যাটফর্ম এবং পরিকাঠামো পায়।”

নতুন রুটম্যাপ ও দপ্তর বণ্টন

ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের পাশাপাশি নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের ক্রীড়া উন্নয়নের একটি সুনির্দিষ্ট রুটম্যাপ তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হয়েছে। দিলীপ ঘোষকে পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন, অগ্নিমিত্রা পলকে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং ক্ষুদিরাম টুডুকে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলার ফুটবল থেকে শুরু করে অ্যাথলেটিক্স— সব ক্ষেত্রেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। মাঠের রাজনীতি বন্ধ করে প্রকৃত খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি ক্রীড়ামহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রশাসনের অধীনে বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো কত দ্রুত আধুনিক রূপ পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *