তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে তোলপাড়! মোদী-শাহের নীরবতা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন অভিষেকের

তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে তোলপাড়! মোদী-শাহের নীরবতা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন অভিষেকের

হুগলি ও নদীয়ায় দুই তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় বিজেপির দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) মৃত দুই কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ডবল ইঞ্জিন সরকার কেন এই হিংসার ঘটনায় নীরব?

আক্রান্ত ও নিহতের তালিকা

তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, নিহত দুই কর্মী হলেন হুগলির পোলবা-দাদপুর ব্লকের সোমনাথ আচার্য এবং নদিয়ার চাকদহ ব্লকের তপন শিকদার।

  • হুগলি: সপ্তগ্রাম বিধানসভার সোমনাথ আচার্যকে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা মারধর করে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।
  • নদিয়া: চাকদহের তৃণমূল কর্মী তপন শিকদারকে সিলিন্দা বাজারে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তাঁকেও আরজি করে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, যেখানে তিনি মারা যান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ

দুই কর্মীর মৃত্যুতে বিজেপি নেতৃত্বকে বিঁধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু প্রশাসন নীরব। তৃণমূলকে সমর্থন করাই কি তাঁদের অপরাধ ছিল?” প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নেতারা যখন জয়ের উদযাপনে ব্যস্ত, তখন সাধারণ মানুষ হিংসার শিকার হচ্ছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ ও আদালত এই পরিস্থিতিতে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

বিজেপির পাল্টা যুক্তি ও পুলিশের বয়ান

বিজেপি অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুগলি জেলা বিজেপি সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় এবং চাকদহের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষের দাবি, বিজেপি হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয় বরং ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটে থাকতে পারে।

হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে পোলবার ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। অভিযুক্তরা একসঙ্গে বসে মদ্যপান করার সময় নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৪ মে নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলের কর্মীদের শান্ত থাকার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। প্রশাসনের এই ভিন্ন বয়ান ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে দুই কর্মীর মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে তোলপাড়! মোদী-শাহের নীরবতা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন অভিষেকের

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *