আমদানি সামাল দিতে সক্ষম ভারতের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, আশ্বস্ত করলেন পীযূষ গোয়েল – এবেলা

আমদানি সামাল দিতে সক্ষম ভারতের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, আশ্বস্ত করলেন পীযূষ গোয়েল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমানে ভারতের কাছে ১১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ (ফরেক্স রিজার্ভ) মজুদ রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের কাছে ৮ থেকে ১২ মাসের আমদানি সুরক্ষাকবচ থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। সেই হিসেবে ভারত বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ভারতের মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৭০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও পরিষেবা আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) তথ্যমতে, দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে ৬৯০ বিলিয়ন ডলার সঞ্চিত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী আমদানির জন্য পর্যাপ্ত।

সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও স্পষ্টীকরণ

বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার মাঝে দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, এক বছরের জন্য সোনা কেনা পিছিয়ে দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করার বিষয়গুলো অন্যতম। তবে এই বার্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ায় পীযূষ গোয়েল বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান মূলত ব্যক্তিগত ও বিলাসবহুল খরচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য বা নতুন বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণে কোনো বাধা নেই, বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রফতানি বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রযুক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

বাণিজ্যমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের বর্তমান চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গুণগত মান বজায় রেখে বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রমাণ করার এটাই উপযুক্ত সময় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (MSME) উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্ভাব্য প্রভাব ও আগামীর পথ

বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের নিশ্চয়তা থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত হবে। এছাড়া উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে করা সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো কাজে লাগিয়ে রফতানি বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসাথে আইটি সেক্টরে ‘হাইব্রিড ওয়ার্ক কালচার’ বজায় রাখায় জ্বালানি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ হ্রাসের ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *