জ্বালানি সংকট? গুজব ও রাজনীতি বন্ধ করুন! দেশবাসীকে বড় স্বস্তির খবর শোনালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরী। ‘সিআইআই বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট জানান, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও ভারত তার অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।
পর্যাপ্ত মজুদের তথ্যে স্বস্তির বার্তা
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বর্তমান সক্ষমতার একটি খতিয়ান তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, যেকোনো স্বল্পমেয়াদী সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত মজুদ রয়েছে। বর্তমানে দেশের ভাণ্ডারে সর্বোচ্চ চাহিদার সমতুল্য ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। এর পাশাপাশি ৬০ দিনের এলএনজি এবং ৪৫ দিনের এলপিজি-র মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। হারদীপ সিং পুরীর মতে, আমদানির উৎস বহুমুখী করার ফলে ভারত এখন ৪১টি দেশ থেকে তেল সংগ্রহ করছে, যা ২০০৬-০৭ সালে ছিল মাত্র ২৭টি দেশ। এই কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলেও বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
তেল সংস্থাগুলোর লোকসান ও বাজার স্থিতিশীলতা
সরবরাহ ব্যবস্থা অটুট থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো প্রবল আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। মন্ত্রী জানান, বিপণন সংস্থাগুলো প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে এবং আন্ডার-রিকভারি বা ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই বিপুল আর্থিক বোঝা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে গত চার বছর ধরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যয় কমাতে এবং কারপুলিং বা গণপরিবহন ব্যবহারের যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন পুরী।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হওয়াকে সরকারের সুসমন্বিত পদক্ষেপের সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে পর্যাপ্ত মজুদ এবং অন্যদিকে আমদানির উৎস বৃদ্ধির ফলে ভারত এই মুহূর্তে জ্বালানি যুদ্ধের মোকাবিলায় যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা বা গুজব ছড়ানো বন্ধ হওয়া জরুরি, কারণ দেশের ১ লক্ষেরও বেশি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং ৩৩ কোটির বেশি পরিবারে এলপিজি সরবরাহ সচল রাখতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
