নবান্নে সাংবাদিকদের ডানায় ছাঁট! সংবাদ সংগ্রহে জারি হলো কড়া বিধিনিষেধ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে সংবাদ সংগ্রহের চিরাচরিত রীতিতে কার্যত যতি চিহ্ন টেনে দিল নবনির্বাচিত প্রশাসন। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার থেকে সচিবালয়ের ভেতরে সাংবাদিকদের গতিবিধি ও যাতায়াতের ওপর জারি করা হয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। এখন থেকে প্রেস কর্নারের বাইরে অন্য কোনো তলা বা দফতরে যেতে হলে সাংবাদিকদের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে নবান্নের অলিন্দে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
দিল্লি মডেলের প্রতিফলন বাংলায়
নবান্ন সূত্রের খবর, নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো সাংবাদিককে প্রেস কর্নারের বাইরে যেতে হলে নিচে বসেই জানাতে হচ্ছে তিনি ঠিক কার সঙ্গে, কোন দফতরে এবং কী কারণে দেখা করতে চান। সেখান থেকে অনুমতির বিশেষ স্লিপ হাতে পাওয়ার পরেই মিলছে ওপরে ওঠার ছাড়পত্র। এমনকি এদিন কাজ চলাকালীন বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে ওপরতলা থেকে কার্যত নামিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের যাতায়াত যেভাবে নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, নবান্নের এই পদক্ষেপ হুবহু সেই ‘দিল্লি মডেল’কেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ও নেতিবাচক প্রভাব
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার যুক্তি দেওয়া হলেও অভিজ্ঞ মহলের দাবি, এটি আসলে তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা সৃষ্টির একটি কৌশল। সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার ফলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের বিধিনিষেধের ফলে সরকারের জনবিরোধী বা বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো আড়াল করা সহজ হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খবরের অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হবে। গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় প্রশাসনের ওপর নজরদারির যে ভূমিকা সংবাদমাধ্যম পালন করে, নবান্নের এই নতুন নির্দেশিকা সেই পথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলল। সংবাদমাধ্যমের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের দূরত্ব বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
