অ্যাকশন মোডে শুভেন্দু! ৪১টি দপ্তরের আধিকারিকদের নবান্নে তলব, শুরু প্রশাসনিক সংস্কার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ৪ মে বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অ্যাকশন মোডে রয়েছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বেলা দুটোয় নবান্নে রাজ্য সরকারের ৪১টি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি দপ্তর থেকে অন্তত পাঁচজন পদস্থ কর্মকর্তাকে এই আলোচনায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজেট পর্যালোচনা ও আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা
নবান্ন সূত্রে খবর, এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হলো বিভিন্ন দপ্তরের আয়-ব্যয় এবং বর্তমান বাজেটের সঠিক মূল্যায়ন। রাজ্য সরকারের চলমান প্রকল্পগুলোতে কোনো পরিকাঠামোগত বা আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কর্মকর্তাদের মতামত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত আগামী ছয় মাসের একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ এবং পরবর্তী দুই বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাই এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো, যা এতদিন রাজ্যে থমকে ছিল, সেগুলোকে দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও ডবল ইঞ্জিন সরকারের তৎপরতা
প্রশাসনিক এই তৎরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সমান সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। ২০ মে ফলতায় ভোটগ্রহণ এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা। বিধানসভায় নিজেদের শক্তি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসক দল। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’-সহ অন্যান্য জনকল্যাণকর প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিশ্লেষকদের মতে, শপথ গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘনঘন বৈঠক এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান রাজ্যে এক নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার বা ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলকে কাজে লাগিয়ে থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নবান্নের এই মেগা বৈঠক থেকেই সেই সংস্কারের রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
