“মমতা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, কোনো আসাম্মান সইব না!” শপথ নিয়েই বড় নির্দেশ শুভেন্দুর – এবেলা

“মমতা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, কোনো অসম্মান সইব না!” শপথ নিয়েই বড় নির্দেশ শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সৌজন্যের নজির সৃষ্টি করলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক পুলিশ বৈঠকে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, তাই তাঁর নিরাপত্তায় কোনওরকম শিথিলতা বা অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না।

মমতার নিরাপত্তা বহাল, কাটছাঁট অভিষেকের প্রোটেকশনে

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ‘জেড প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন, নতুন সরকারের জমানাতেও তা অপরিবর্তিত থাকছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং তাঁর প্রোটোকলে যেন কোনও খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বজায় রাখলেও, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে। শুভেন্দুর নির্দেশ অনুযায়ী, একজন সাংসদ হিসেবে আইনত যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, অভিষেক ঠিক ততটুকুই পাবেন এবং তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত ব্যবধানে পরিবর্তন করা হবে।

পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বার্তা

নবান্নের এই বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ সংস্কারমূলক বার্তা দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। গত ১৫ বছরের তিক্ততা ভুলে পুলিশকে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, এখন থেকে পুলিশ আধিকারিকরা চাইলে যে কোনও রাজনৈতিক দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, যা আগের জমানায় কার্যত আসাম্ভব ছিল।

আইনের আওতায় থেকে নির্ভয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, সরকার এমনভাবে পরিচালিত হবে যাতে অতি বড় সমালোচকও আঙুল তোলার সুযোগ না পায়। অতীতের রাজনৈতিক বৈরিতা সরিয়ে রেখে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনাই তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই নির্দেশের ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক চাপ কমবে এবং প্রশাসনিক স্তরে বৃহত্তর সমন্বয় তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *