নদিয়ায় গ্রেফতার ১৫ লক্ষী মাও নেত্রী, চিকিৎসার খোঁজে বাংলায় এসে ছদ্মবেশেও শেষ রক্ষা হলো না

সারান্ডার ঘন জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পিছু হটে বাংলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। নদিয়ার শান্ত গ্রাম কাশিমপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শেষপর্যন্ত ধরা পড়লেন ৫৫ বছর বয়সী এই দুর্ধর্ষ নেত্রী। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও শিল্পাঞ্চল সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টি করা শ্রদ্ধার মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা।
অসুস্থতা ও ছদ্মবেশের কৌশল
সিপিআই (মাওবাদী) আঞ্চলিক কমিটির সদস্য শ্রদ্ধা বিশ্বাস বিভিন্ন সময়ে বেলা সরকার, পঞ্চমী, দীপা বা সন্ধ্যা বিশ্বাসের মতো একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করে গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে এসেছেন। ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর অভিযানের জেরে মাওবাদী ক্যাম্পে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিলে তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। রেশন ও গোলাবারুদ থাকলেও চিকিৎসার অভাবে জীবন বাঁচাতে তিনি বাংলায় প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। গোয়েন্দাদের মতে, বিধানসভা ভোটের গণনা পরবর্তী ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তিনি নিরাপত্তা বেষ্টনী এড়িয়ে নদিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গ্রেফতারি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নদিয়ার চাকদহে চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর আসামে পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল এই নেত্রীর। কাশিমপুর গ্রামে এপিডিআর সদস্য কিশোর সর্দারের বাড়িতে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের এসটিএফ সোমবার ভোরে যৌথ অভিযান চালিয়ে শ্রদ্ধা ও তাঁর এক সঙ্গীকে গ্রেফতার করে। শ্রদ্ধা বিশ্বাস কুখ্যাত মাও নেতা গৌর চক্রবর্তীর শ্যালিকা এবং তাঁর স্বামী শ্যাম শিঙ্কুও মাওবাদী স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য। এই গ্রেফতারি মাওবাদী নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সীমান্ত এলাকায় বিদ্রোহীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে।
