এমএলএসে টাকার খেলায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি, একাই টেক্কা দিচ্ছেন পাঁচটি ফুটবল ক্লাবকে

লিওনেল মেসি মাঠে যেমন ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষকে ডজ করেন, মাঠের বাইরেও তাঁর আর্থিক দাপট সমান অপ্রতিরোধ্য। মেজর লিগ সকার (এমএলএস) প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্তিনীয় মহাতারকার বার্ষিক পারিশ্রমিক এখন আকাশছোঁয়া। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে নতুন চুক্তিতে তাঁর মোট গ্যারান্টিড পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা। এমএলএসের ইতিহাসে যা কেবল অনন্য নয়, বরং অভাবনীয় এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
বেতনের পাহাড়ে সবার উপরে মেসি
মেসির আয়ের অঙ্ক লিগের অন্যান্য ফুটবলারদের তুলনায় কয়েক যোজন দূরে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সন হিউং-মিন পান প্রায় ১১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সনের তুলনায় মেসির আয় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া ইন্টার মায়ামির রদ্রিগো দে পল প্রায় ৯৬ কোটি এবং টমাস মুলার প্রায় ৫১ কোটি টাকা পাচ্ছেন। তালিকার শীর্ষে থাকা মেসির বেতন একা এতটাই বেশি যে, লিগের ছোট ছোট পাঁচটি ক্লাবের মোট স্কোয়াড খরচের সমান অর্থ কেবল তাঁর পেছনেই ব্যয় করা সম্ভব।
ইন্টার মায়ামির আকাশচুম্বী ব্যয় ও লিগের প্রভাব
মেসি আসার পর ইন্টার মায়ামির আর্থিক কাঠামো আমূল বদলে গিয়েছে। ক্লাবের বর্তমান স্কোয়াড খরচ প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা, যেখানে ফিলাডেলফিয়ার মতো দলের পুরো বাজেটের খরচ মাত্র ১১৭ কোটি টাকার কাছাকাছি। গত বছরের তুলনায় এমএলএসে খেলোয়াড়দের গড় বেতন সামান্য বাড়লেও, তা মূলত মেসি-কেন্দ্রিক অর্থনীতির কারণেই ত্বরান্বিত হয়েছে। লিগের মোট পারিশ্রমিক এখন প্রায় ৬৩১০ কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
ব্যবসায়িক মডেল ও আগামীর সম্ভাবনা
৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সেও মেসির এই বিপুল আয়ের কারণ কেবল গোল করা নয়, বরং তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য। সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিটের চাহিদা এবং বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধির মাধ্যমে মেসি কার্যত এমএলএসকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে গিয়েছেন। তবে একজন ফুটবলারের এই আকাশচুম্বী আয় ও অন্যান্য দলের সঙ্গে বিপুল ব্যবধান ভবিষ্যতে লিগের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইন্টার মায়ামি এখন আর নিছক একটি ক্লাব নয়, বরং মেসিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী ফুটবল ইন্ডাস্ট্রি।
