বিধানসভায় শপথের পর বড় ইঙ্গিত! তৃণমূল বিধায়কদের ‘স্বাধীনতা’ নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

বিধানসভায় শপথের পর বড় ইঙ্গিত! তৃণমূল বিধায়কদের ‘স্বাধীনতা’ নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

১৮তম রাজ্য বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার শপথ গ্রহণ পর্ব শেষে বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর সরকার হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং জনমুখী। শাসনব্যবস্থায় কোনো গোপনীয়তা থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার এখন থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের নজরদারিতে পরিচালিত হবে। এদিন তিনি সকল বিধায়ককে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে মানুষের দেওয়া দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ

এদিনের কর্মসূচিতে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়কের উপস্থিতি। রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান, হরিহরপাড়ার নিয়ামত শেখ এবং সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসের মতো নেতাদের সেখানে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা যায়। এই ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে দাবি করেন, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক তাঁর কাছে মুক্ত বোধ করার কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বিধানসভায় এখন এক স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

মোদীর পথে ব্যয় সঙ্কোচ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শ অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি আড়ম্বরহীন জীবনযাত্রায় বিশ্বাসী। জনগণের করের টাকায় বিলাসিতা বন্ধ করতে তিনি নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারি তহবিলের প্রতিটি পয়সা সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত। এছাড়া নন্দীগ্রামের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেও নন্দীগ্রামের মানুষের স্বার্থে কাজ করা থেকে তিনি বিরত থাকবেন না। স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাকে হাতিয়ার করে একটি জনহিতকর সরকার উপহার দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *