আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিতে অগ্নিমূল্য সোনা ও রুপো, এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া দর

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিতে অগ্নিমূল্য সোনা ও রুপো, এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া দর

মোদী সরকারের আমদানিকৃত শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের জেরে দেশের বাজারে সোনা ও রুপোর দামে নজিরবিহীন উত্থান ঘটেছে। বুধবার বাজার খুলতেই মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১১ হাজার টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপোর দামও, যা এক লাফে প্রতি কিলোগ্রামে ৩ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সরকারের এই কঠোর অবস্থান ধাতু বাজারে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে।

শুল্ক বৃদ্ধি ও বাজারের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রীয় সরকার সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে বেসিক কাস্টম ডিউটি ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়ন কর (AIDC) ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফিউচার ট্রেডিংয়ে। মঙ্গলবার যেখানে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দর ছিল ১,৫৩,৪৪২ টাকা, বুধবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৪,৪৯৭ টাকায়। একইভাবে রুপোর দামও একদিনে ২২,৩৬৭ টাকা বেড়ে প্রতি কিলোগ্রাম ৩,০১,৪২৯ টাকায় পৌঁছেছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মূলত ডলারে আমদানি মূল্য মেটানোর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা সামাল দিতেই এই শুল্ক বৃদ্ধি। বিদেশ থেকে সোনা আমদানি ব্যয়বহুল করে তুলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে উৎসব ও বিয়ের মরসুমের আগে এই আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কলকাতা ও খুচরো বাজারের হালহকিকত

কলকাতার বাজারেও এই প্রভাব স্পষ্ট। বুধবার মহানগরে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১৫,৩৯০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১৬,৭৮৯ টাকায় পৌঁছেছে। রুপোর দাম খুচরো বাজারে প্রতি কিলোগ্রামে ৩,৩০,০০০ টাকা ছুঁয়েছে, যা গতদিনের তুলনায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেশি। যদিও জানুযারি মাসের সর্বকালীন রেকর্ড দরের তুলনায় সোনা এখনও কিছুটা সস্তা, তবুও সরকারের নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে নিকট ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *