শুভেন্দু ‘ভালো লোক’! মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মনোহরা হাতে হাজির হুমায়ুন কবীর – এবেলা

শুভেন্দু ‘ভালো লোক’! মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মনোহরা হাতে হাজির হুমায়ুন কবীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্যের এক বিরল ও নতুন সমীকরণ দেখা গেল রাজ্য বিধানসভায়। বুধবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মিষ্টি ‘মনোহরা’ উপহার নিয়ে হাজির হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। ভোটের লড়াই আর রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে এদিন খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ভালো লোক’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর— এই দুটি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল ত্যাগ করে নিজের নতুন দল গড়ে এই সাফল্য পাওয়ায় এদিন তাঁর চোখেমুখে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। বিধানসভায় প্রবেশের সময় তিনি জানান, রাজনীতির লড়াই যেমন চলেছে তেমনই চলবে, কিন্তু ব্যক্তিগত সৌজন্য রক্ষায় তিনি শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সকলের জন্যই মিষ্টি এনেছেন। তাঁর কথায়, “মনোহরা হলো মনের আরাম। রাজনৈতিক কচকচি অনেক হয়েছে, এবার একটু মিষ্টিমুখ হওয়া দরকার।”

ছেলের হাতেই কি রেজিনগরের ব্যাটন?

শপথগ্রহণ শেষে হুমায়ুন কবীর জানান, সাংবিধানিক নিয়ম মেনে তিনি নওদা কেন্দ্রের বিধায়ক পদটিই নিজের কাছে রাখছেন। ফলে রেজিনগর আসনটি তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে। সেই শূন্য আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে নিজের ছেলে গুলাম নবী আজাদকে (রবিন) প্রার্থী করার পরিকল্পনাও এদিন প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন তিনি। ছেলের নামকরণের পেছনে কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রভাব এবং রবীন্দ্রজয়ন্তীতে জন্ম হওয়ার প্রেক্ষাপটটিও এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি

সৌজন্য বিনিময় করলেও রাজনৈতিক আক্রমণে পিছু হটেননি হুমায়ুন। গলায় দুটি পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে বিধানসভায় এসে তিনি অভিনব কায়দায় দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি জানান। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, যা গণতন্ত্রের জয়। এই পরিবর্তনের আবহেই ছোট দল হিসেবে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে এবং নিজের শক্তিকেন্দ্র মুর্শিদাবাদে প্রভাব ধরে রাখতে তিনি যে আপসহীন থাকবেন, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুনের এই ‘মিষ্টি কূটনীতি’ এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি নরম মনোভাব ভবিষ্যতে বিধানসভার অন্দরে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *